অখন্ড-মন্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।
icon

অনুভব দর্শন

icon

বিংশতম অনুভব দর্শন

দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির প্রাঙ্গণ, কলকাতা

20 তম অনুভব দর্শন
31-03-2025
দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির প্রাঙ্গণ - অনুভব দর্শন

প্রজ্ঞা প্রবাহের পশ্চিমবঙ্গ শাখা লোকপ্রজ্ঞার ২০ তম অনুভব দর্শন হয়ে গেল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির প্রাঙ্গণে। দিনটি ছিল বর্ষ প্রতিপদার পরের দিন- ১৭ই চৈত্র ১৪৩১ইং ৩১শে মার্চ ২০২৫; সময় সকাল ৯টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের স্মরণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকপ্রজ্ঞা মাতৃশক্তি এবং লোকপ্রজ্ঞা সঙ্গীত যৌথভাবে।দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির ও দেবোত্তর এস্টেটের অছি পরিষদের সম্পাদক মাননীয় শ্রী কুশল চৌধুরী মহাশয়ের একান্ত অনুগ্রহে এবং তুহিনা প্রকাশনীর কর্ণধার হিমাংশু মাইতি, মন্দিরের শ্রী দেবব্রত রায়, অছি পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সুসম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের সংকল্প সুত্রটি ছিল স্বামীজীর ধ্যানদৃষ্ট পরম বৈভবশালী ভারতবর্ষ সাকার করার জন্য মাতৃশক্তির চেতনা কি রূপ জাগ্রত হলে তাদের লালিত পালিত সন্তানগণ রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও ঈশ্বর কেন্দ্রিক জীবন যাপন করে ওই শুভ লক্ষ্যে পৌঁছানোর সামর্থ্য অর্জন করতে পারবে। এই সংকল্প সূত্রটি রচনা করেন প্রজ্ঞাপ্রবাহের পূর্বক্ষেত্র সংযোজক মাননীয় শ্রী অরবিন্দ দাস মহাশয়। পরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সমাজের সমষ্টি চেতনার পরিবর্তনের প্রয়োজন। সেটি সম্ভব কেবলমাত্র ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা, স্বামীজি ও চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন দর্শন একান্তভাবে পাথেয় করে আগাতে পারলে।

অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রী সারদা মঠের বিদুষী সন্ন্যাসিনী, ব্রহ্মবিদ্যা প্রচারনিরতা, সারদা মঠের মুখপত্র নিবোধত পত্রিকার সম্পাদিকা পরম পূজনীয়া প্রব্রাজিকা আপ্তকাম প্রাণা মাতাজী। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বৈদিক মন্ত্র পাঠ এবং উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত ভাষণে মধ্যবঙ্গ মাতৃশক্তি সহ প্রমুখ, ডাঃ রেবা মন্ডল উল্লেখ করেন ভবতারিণীর মন্দির প্রাঙ্গণটি ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ বেছে নিয়েছিলেন মোক্ষ বিজ্ঞানের গবেষণাগার হিসাবে এবং ঐ গবেষণাগার থেকেই তিনি ভারতের বিগত পাঁচ হাজার বছরের অখন্ড সর্বাবয়ব হিন্দুধর্মকে পুনরুদ্ধার করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও দৈবীশক্তি সঞ্চয়ের এর শক্তিপীঠ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এই মন্দির প্রাঙ্গণকেই। সেই জন্যই লোকপ্রজ্ঞা মাতৃশক্তিও পরম বৈভবশালী রাষ্ট্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে শক্তি আরাধনা ও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ভবতারিণীর চরণপ্রান্তকেই বেছে নিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বামীজি নির্দেশ করেছেন, মা ঠাকুরণকে কেন্দ্র করে নারী মঠ তৈরী হবে যেখান থেকে পূর্বের গার্গী, মৈত্রেয়ীর মত ব্রহ্মবাদিনীরা আবির্ভূত হবেন। স্বামীজির আকাঙ্ক্ষিত সেই সারদা মঠের মা সারদার প্রতিনিধি হয়ে শক্তি আরাধনার গুরু হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন পরম পূজনীয়া মাতাজী। পরম পূজনীয়া মাতাজী তাঁর ভাষণে 'এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ'কে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ মাতৃশক্তি জাগরণের যে রসায়ন তৈরি করেন সেই রসায়ন বিজ্ঞানের সমস্ত সূত্রগুলি পর পর ব্যাখ্যা করেন। আসলে মাতাজীর বক্তব্যের শিরোনাম ছিল 'মাতৃশক্তির জাগরণে ঠাকুর,মা ও স্বামীজীর অবদান'। নারীকে যোগ্য সম্মান প্রদর্শন, নারী পুরুষের ভেদ দূরীকরণ,নারী গুরু গ্রহণ, সারদা পূজা,গোপীভাবের সাধন ইত্যাদি প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। মাতৃশক্তির চেতনা জাগরণের প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রয়োগ ব্যবস্থা শ্রীরামকৃষ্ণ অবতারের অনন্যতা- এটিই মাতাজী বিশেষ ভাবে তুলে ধরেন। তিনি ঠাকুর, মায়ের নারী জাগরণে সেই কালে ভূমিকায় ওপরে অসামান্য যুক্তি, তত্ত্ব ও ইতিহাস দিয়ে ভক্তবৃন্দকে সমৃদ্ধ করেন। যার মূল বিষয় - মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন এক সুন্দর, সহজ সরল ও পবিত্র সমাজ ও দেশনির্মাণে প্রেম-ভক্তি-ত্যাগ আর সেবাকেই তাঁরা মূলধন করেছেন। তিনি বলছেন, পরম পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ এসেছেন বলেই ধনী-দরিদ্র, মূর্খ-পণ্ডিত, উঁচু-নিচু, ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ তথা আচণ্ডাল মানুষের সমস্ত ভেদাভেদ দূর হয়েছে।ঠাকুর মাকে জগজ্জননী বলেছেন, ঠাকুর রামকৃষ্ণই একমাত্র পরমপুরুষ যিনি তাঁর যাবতীয় কৃতি এবং শক্তি মাকে অর্পণ করে গিয়েছিলেন। নারী গুরু হচ্ছেন ,নারী মন্ত্র দিচ্ছেন-এটা একটা বিপ্লব। এবং এই বিপ্লব ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মায়ের ভাব থেকেই এসেছে। ঠাকুর যেমন পুরুষ ভক্তকে 'চৈতন্য হোক' বলে আশীর্বাদ করেছেন। ঠিক তেমনি নটী বিনোদিনীকেও 'চৈতন্য হোক' বলে আশীর্বাদ করেছেন। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সঙ্ঘজননী শ্রীমা সারদা দেবী আজ জগজ্জননী হয়ে উঠেছেন। তাই তাঁদের কাজে-কর্মে ভাবনায়, আশীর্বাদে, আচরণে সর্বত্র এই যে উচ্চনীচ ভেদাভেদহীন, অস্পৃশ্যতাহীন, সমস্ত কিছু এক পবিত্র তীর্থের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আর সেই মহাতীর্থ হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির যেখানে আমরা আজ মাতৃশক্তির উদ্বোধন এবং শক্তি জাগরণের জন্য অনুষ্ঠান করছি। আবার ইতিহাস বলছে-- কোন দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি কতটা সভ্য তা জানতে তারা তাদের নারীদের সাথে কেমন আচরণ করে সেদিকে লক্ষ্য কর। অর্থাৎ সভ্যতা ও জাতিকে সমৃদ্ধ, উন্নত হতে হলে নারীদের যথাযোগ্য সাম্য ও সম্মান দিতেই হবে। নারীশক্তির বাস্তবায়ন, জাগরণ বা নারীর ক্ষমতায়নের মানে হল, সমাজের প্রতিটি স্তরে এমন একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা যেখানে নারী স্বমহিমায় স্বাধীন ভাবে বিচরণ করবে এবং যথাযোগ্য মর্যাদার অধিকারিণী হয়ে উঠবে; নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে বস্তুগত, মানবিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও জ্ঞান সম্পর্কিত সম্পদের ওপর -সেদিনই নারীজাতি পাবেন পূর্ণ মর্যাদার স্বাদ ও সন্ধান যেমন পাবে তেমনি একই সঙ্গে সমাজ পাবে জাগৃতির আলো। মনে রাখবেন,এই তীর্থক্ষেত্রের মাটিতেই মিশে আছে মা, ঠাকুরের পূণ্যপদরেণু! মনে হয়,মানুষ সতত আনন্দ ও সত্যের সন্ধানে আছে। এবং সেই আনন্দ ও সত্য হচ্ছে পরিপূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক, এক এবং অদ্বিতীয়। মানুষ সেই সত্য ও আনন্দ উপলব্ধি করতে সমর্থ। সত্য উপলব্ধিই মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য। এবং সেই সত্যকে উপলব্ধির বিভিন্ন পথও রয়েছে-- এই প্রাথমিক ও মৌলিক ভাব ও চিন্তাগুলি ভারতীয় জীবনকে প্রেরণা দিয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতির আধ্যাত্মিক ভিত্তি স্থাপন করেছে, তার আধ্যাত্মিক গতি নির্দেশ করেছে এবং ভারতবর্ষের ভাগ্যও সম্ভবত নির্ণয় করেছে।

মাননীয় কুশল চৌধুরী মহাশয়, (অছি ও সম্পাদক দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও দেবোত্তর এস্টেট) বলেন যে,ভারতবর্ষে এত মন্দির, এত দেবালয় থাকা সত্ত্বেও কেন আবার একটি নতুন মন্দিরের প্রয়োজন হল? আসলে এই মন্দিরের প্রয়োজন এখানেই,এখান থেকেই ভারতবর্ষের ভেদাভেদ হীন সমন্বয় সাধনকারী এক নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হবে, যেখান থেকে সারা পৃথিবী ভারতবর্ষের ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং গরিমাকে সর্বোপরি তার সমন্বয় ধর্মকে বুঝতে, শিখতে, অনুধাবন করতে পারবে। আরও সহজভাবে বললে বলা যায়- ভারতবর্ষকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে। "আমাদের সব আছে, সব কিছুর প্রতি ভালোবাসা আছে, শ্রদ্ধা আছে, প্রেম আছে, শুধুমাত্র মাঝে মাঝে মনে হয়, শুধু দেশের প্রতি, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধার কোথাও ঘাটতি আছে।" এই বিষয়টি অনেককেই গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তবে এই চিন্তার নিরসনে সনাতনী ভাবনায় জারিত ও সিক্ত অজস্র সংগঠন নিরলস ভাবে শ্রদ্ধা,ভক্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।আগামী দিনের জন্য একটি উন্নত ভারত ও পৃথিবী তৈরির লক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দেশমাতৃকা ও মানুষের সেবার সঙ্গে স্বামীজির চিন্তাভাবনা, আদর্শ পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।এটাই আশার,এটাই ভরসার।বর্তমান প্রজন্মকে এই মন্দির, এর ইতিহাস চেতনা সেই দেশপ্রেমের সাধনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এখানে সব ধর্মের পূজা-প্রার্থনা হয়। ভারতীয় ধর্মের ত্রিধারা এখানে মিলিত হয়েছে।শাক্ত,শৈব ও বৈষ্ণব ধর্মের মিলনভূমি এই দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসার ও প্রচারেও এই মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। বক্তব্যের শেষে তিনি ঘোষণা করেন, "অনুষ্ঠান শেষে সকল ভক্তবৃন্দের ভবতারিণী মাকে দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তারপরে ভোগশালায় অন্নভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনারা আসবেন সবাইকে আসতে বলুন এই মন্দিরে, এই মন্দির মানুষের, ভারতবর্ষের তীর্থক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, এর কাজ কর্ম ধ্যান ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন এই প্রার্থনা।"

অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে যোগ প্রদর্শন, গীতা পাঠ, বলাকা মিস্ত্রির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য-সর্বোপরি শিল্পী সঞ্জীব মন্ডল ও তার পুত্র সুপ্রসন্ন মন্ডলের এই আবহে শ্রীশ্রী ঠাকুরের মূর্তি নির্মাণ ভক্তদেরকে অভিভূত করেছে। আবৃত্তি,যোগ প্রদর্শন, গীতা পাঠ, বলাকা মিস্ত্রির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য-সর্বোপরি শিল্পী সঞ্জীব মন্ডল ও তার পুত্র সুপ্রসন্ন মন্ডলের এই আবহে শ্রীশ্রী ঠাকুরের মূর্তি নির্মাণ ভক্তদেরকে অভিভূত করেছে। মধ্যে ছিল লোকপ্রজ্ঞা সংগীত শিল্পীদের শ্যামা সংগীত, ভক্তিগীতি পরিবেশন। আকর্ষণীয় ছিল টুম্পা চক্রবর্তীর কন্ঠে স্বামীজীর 'Kali the Mother' বঙ্গানুবাদ মৃত্যু রূপা মা র আবৃত্তি, ক্রিয়েটিভ একাডেমি হলদিয়ার সদস্যের দ্বারা সঙ্গীতের তালে তালে যোগপ্রদর্শন। বালিকার দুর্গা নৃত্য, বালকের গীতা পাঠ, বলাকা মিস্ত্রির চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব প্রসঙ্গ। মাননীয় শ্রীকুশল চৌধুরী মহাশয় রাসমনির দেশপ্রেম, শ্রীরামকৃষ্ণ দর্শন, সারদা মায়ের ত্যাগ, স্বামীজীর বৈদান্তিক জাতীয়তাবাদের বার্তা শুনিয়েছেন। তারপর হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার পুনর্জাগরণে শ্রীরামকৃষ্ণের ভূমিকা তুলে ধরে সমগ্র জাতিকে স্বধর্মে দৃঢ়কৃত হওয়ার জন্য জাগরনের ডাক দেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রধান,মধ্যবঙ্গ মাতৃশক্তি প্রমুখ ডঃ সুমিতা বটব্যাল ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পূর্ণ বন্দেমাতরম গান শোনান উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান, উত্তর বঙ্গ মাতৃভক্তি প্রমুখ ডঃ অঙ্কিতা মুখার্জী। সবার কল্যাণ প্রার্থনায় কল্যাণ মন্ত্র "সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ" উচ্চারণ করেন শ্রীমতী স্বপ্না গলুই। পূজনীয়া মাতাজী মন্তব্য করেন, এ এক ঐতিহাসিক সুযোগ ভবতারিণীর নাট মন্দিরে এত বড় সভা। উক্ত সভাতে শ্রীরামকৃষ্ণ- সারদা প্রসঙ্গ- লোকপ্রজ্ঞার ব্যবস্থাপনা ও অনুষ্ঠান রচনা খুবই আনন্দদায়ক। আর এই অনুষ্ঠানের মধ্যেই চলতে থাকে শ্রীরামকৃষ্ণের তাৎক্ষণিক মূর্তি নির্মাণ। মূর্তি নির্মাণ করেন মৃৎ শিল্পী সঞ্জীব মন্ডল ও তার পুত্র সুপ্রসন্ন মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন মোট ৩৩৪ জন। যার মধ্যে ১৫৪ জন মহিলা ও ৮৫ জন ছাত্রী।সমস্ত প্রতিনিধিদের কাছে অন্তিম আকর্ষণ ছিল কেবলমাত্র প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ মাতৃ দর্শনের ব্যবস্থা, পূজার আয়োজন, বিভিন্ন সুস্বাদু অন্নব্যাঞ্জন সহযোগে বিশেষ প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা।

এই অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসে লোকপ্রজ্ঞার নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, কুলাচার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সমন্বয় ও সমতার বার্তা। উপস্থিত প্রবুদ্ধ জনের মধ্যে ছিলেন স্বস্তিকার পূর্ব সম্পাদক ডঃ বিজয় আঢ্য, বিদ্বান ব্যক্তিত্ব শ্রী সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, লোকপ্রজ্ঞার রাজ্য সংযোজক ডঃ সোমশুভ্র গুপ্ত, উত্তর বঙ্গ সংযোজক ডঃসুমন পাণিগ্রাহি, মধ্যবঙ্গ সংযোজক শ্রী মনোরঞ্জন হাজরা, সমাজ বিজ্ঞানে বিভাগের রাজ্য প্রমুখ ডঃ অনিল ঘোষ, প্রজ্ঞাভাষ্য (প্রচার ও প্রকাশনা) রাজ্য প্রমুখ শ্রী অনির্বাণ দে ও আরও অনেকে। এই অনুষ্ঠানে পরমপ্রাপ্তি এক আত্মনির্ভর মাতৃশক্তি। দীপমালাদি, মৌমিতাদি, কাকলিদি, মমতাদি, রিমাদি - এক সুসমন্বিত সঞ্চালনা গোষ্ঠী; নবীন প্রবীনণের মেল বন্ধন চোখে পড়ার মতো। অনুঘটক ছিলেন মিলন দে, মধ্যবঙ্গ সহ সংযোজক। সঙ্গীত নির্বাচনের দায়িত্ব সামলান রাজ্য সংগীত প্রমুখ পারমিতা গুপ্ত, মিন্টু চক্রবর্তী, সঙ্ঘমিত্রাদি, দীপমালাদি। প্রতিনিধি সংগ্রহ ও পঞ্জিকরণ ব্যবস্থার গুরুদায়িত্ব সামলান দক্ষিণ বঙ্গের মাতৃশক্তি সহপ্রমুখ স্বাগতা মাইতি এবং যুব সংগঠক শ্রী পুষ্পেন্দু কুণ্ডু। অনুষ্ঠানের সমন্বয় সূত্রটি ধরেছিলেন রাজ্য সম্পর্ক প্রমুখ ডঃ আশিষ কুমার মন্ডল। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রাজ্য ব্যবস্থা প্রমুখ হিমাংশু মাইতিসহ অন্যান্য কার্যকর্তা। আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন যথাক্রমে শ্রীমিলন কুমার দে, রিমা পাঠক, দীপমালা শাসমল, ডঃ মৌমিতা বর ও রাষ্ট্রীয় সেবা সমিতির দিদিভাই। মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতির কারণে বসার স্থান সংকুলানে সামান্য অসুবিধা এবং গ্রীষ্মের গরমের কষ্ট ভক্তি ও প্রাণময়তায় কোনো দীনতা আনতে পারেনি। উপস্থিত ছিলেন মোট ভক্ত ৩৩৪ জন, এর মধ্যে মাতৃশক্তি ১৯৪ (তার মধ্যে ছাত্রী ৪০ জন) মোট পিতৃশক্তি ১৪০ জন (তার মধ্যে ছাত্র ৪৫ জন)। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে হওয়ার পরে মাতৃদর্শন এবং শেষে অন্নভোগ গ্রহণ ভক্তবৃন্দকে শান্তি এবং শক্তির পথে আগুয়ান করেছে।